জলঢাকায় গমের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন 

জলঢাকায় গমের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন 
জলঢাকায় গমের শীষে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্ন 

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান ঢ়জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি : নীলফামারীর জলঢাকায়  সবুজ মাঠের দিকে তাকালে দেখা যায়, গমের কাঁচা-পাকা শীষ বাতাসে দোল খাচ্ছে।সোনালী রোদে চিকচিক করছে প্রতিটি গমের শীষ।আর কাঁচা- পাকা শীষের সাথে কৃষকের  মন ও শরীরও দোল খাচ্ছে। সবুজ মাঠের দিকে তাকিয়ে কৃষকের মুখে ফুটে উঠেছে হাঁসি। এ যেন এক অনাবিল তৃপ্তির হাঁসি।

আগামী ১৫ থেকে ২৫ দিন পর জমি থেকে চাষিরা গম কাটা শুরু করতে পারবেন।আর তখন কৃষকের স্বপ্ন মিশে যাবে সোনালী গমের শীষে।রবি শস্যের মধ্যে অন্যতম একটি লাভজনক ফসল হচ্ছে গম। বর্তমানে গমের বাজার ভালো থাকায় গম চাষে লাভের আশা করছেন কৃষকেরা । নীলফামারীর জলঢাকায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর গমের ফলন ভালো হয়েছে।

গম ক্ষেতে কোনো ধরণের রোগ- বালাই না হওয়ার কারনে বিঘা প্রতি আগের তুলনায় ফলন বেড়েছে। তবে গম চাষে আগের চেয়ে  আগ্রহ  কমেছে কৃষকের।কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি রবি মৌসুমে জলঢাকায় ৫০ হেক্টর জমিতে কৃষক গম চাষ করেন। কিছু  জমিতে কৃষক উচ্চ ফলনশীল জাত হিসেবে পরিচিত বারি-৩০,৩২ ও ৩৩ রোপণ করেছেন।এছাড়া বারি-২৫,২৭ ও ২৮ জাতের গমও চাষ করা হয়েছে।গমের  ৫ টি প্রদর্শনী প্লটও রয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের সঠিক তদারকি ও পরামর্শে গম ক্ষেতে কোনো রোগবালাই ছিল না।তাই গমের বাম্পার ফলন হয়েছে।

শুক্রবার  উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে  বিক্ষিপ্তভাবে সল্প পরিমান গমের আবাদ করেছে কৃষকেরা।ডাউয়াবারী ইউনিয়নের মাষ্টার পাড়া  গ্রামের গমচাষি ইলিয়াস, মতিন, বাবুল, সহ অনেকে জানান,বিগত সময়ের চেয়ে এবার গমের দানা খুব ভালো এসেছে।প্রতিটি শীষ অনেক বড় হয়েছে। যদি আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত গমের অনুকূলে থাকে ও গমের বাজার ভালো থাকে তাহলে কৃষকেরা লাভবান হবেন।গম চাষে বীজ,কীটনাশক ও দিনমজুরসহ ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা খরচ হলেও বিঘাপ্রতি ৭ থেকে ৮ মণ গম পাবেন বলে জানান কৃষকেরা।

প্রতি মণ গম বর্তমান বাজার দর ১ হাজার ২ শত টাকারও বেশি, তাই বিঘা প্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকার গম বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান কৃষকেরা। গম চাষ একটি অধিক লাভজনক আবাদ।গম চাষে তেমন পানি, সার, কীটনাশক, বালাইনাশক ও নিড়ানীর প্রয়োজন হয় না এতে খরচ অনেক কম। আর কম পরিশ্রমে অধিক লাভ করা যায়। এছাড়াও গমে পোকা-মাকড়ের আক্রমনও তেমন একটা হয় না। গম গাছ জ্বালানি ও বেড়া হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

উপজেলা ভারপ্রাপ্ত  কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা  মীর আহসান বান্না বলেন,গত বছরের চেয়ে এবছর হেক্টর প্রতি ফলন বেশী হবার সম্ভবনা রয়েছে। বাজার দর ও ফলনও ভালো হয়েছে। তাই কৃষকেরা অন্য বছরের তুলনায় এ বছর বেশি লাভবান হবেন। চলতি মৌসুমে হেক্টর প্রতি প্রায় ৩.৩ টন  হারে ফলন পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।