চাঁদপুরে ঈদ উদযাপন! (ভিডিও)

162

শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আফগানিস্তান, নাইজার ও মালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হচ্ছে আজ রোববার, ১ মে। বাংলাদেশে ঈদের চাঁদ দেখা না গেলেও দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে আজ ঈদ উদযাপিত হচ্ছে চাঁদপুরের দুটি গ্রামে।

আজ ঈদুল ফিতর উদযাপন করেছেন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার বড়কুল পশ্চিম ইউনিয়নের শমেসপুর ও সাদ্রা গ্রামের বাসিন্দাদের একটি অংশ।

রোববার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা দরবার শরিফ মাদ্রাসা মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মুফতি জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী জামাতে ঈদের নামাজ পড়িয়েছেন।

দেশের কোথাও চাঁদ দেখা না গেলেও ঈদ উদযাপনের পেছনের কারণ সম্পর্কে সাদ্রা দরবারের পীরজাদা ড. মুফতি বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী জানান, হানাফি, মালেকি ও হাম্বলি- এই তিন মাজহাবের (আদর্শ, মত, বিশ্বাস, মতবাদ) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলো- পৃথিবীর পশ্চিম দিকে চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর যদি নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে পৃথিবীর পূর্ব প্রান্তে পৌঁছে যায় সেক্ষেত্রে পশ্চিম প্রান্তের মুসলমানদের মতো পূর্ব প্রান্তের মুসলমানদের জন্যও রোজা রাখা ফরজ হয়ে যায়। এছাড়া পৃথিবীর পশ্চিম প্রান্তে ঈদের চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর পেলে পূর্ব প্রান্তের মুসলমানদের জন্য ঈদ করা ওয়াজিব হয়ে যায়।

মূলত এই ধারণায় বিশ্বাসী হয়েই দেশের আকাশে চাঁদের দেখা না মিললেও ঈদ উদযাপন করছেন শমেসপুর ও সাদ্রা গ্রামের বাসিন্দারা। সাদ্রা দরবার শরীফের অনুসারীরা বিগত প্রায় ১০০ বছর ধরে প্রথম চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

সৌদি আরবের ঈদের দিনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একই দিনে চাঁদপুরের ৩টি উপজেলার ৪০টি গ্রামে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়ে থাকে।

গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে হাজীগঞ্জ উপজেলার মেনাপুর, বলাখাল, বেলচোঁ, শ্রীপুর, মনিহার, অলীপুর, রাজারগাঁও, বড়কুল, জাকনি ও কালচোঁ।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোল্লা, রূপসা, বাসারা, শাচনমেঘ, খিলা, উভারামপুর, পাইকপাড়া, বিঘা, উটতলী, বালিথুবা, গোয়ালভাওর, কড়ইতলী ও নয়ারহাট।

মতলব উপজেলার এখলাসপুর, নায়েরগাঁও, দশানী, বেলতলী, মোহনপুরসহ আরও কয়েকটি গ্রামেও সৌদি আরবের ঈদের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়।