চট্টগ্রাম লেকসিটি প্রকল্পে ১৭ বছরেও প্লট বরাদ্দ পাননি ৯৮ জন

72

মো. মুক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম থেকে : চট্টগ্রাম লেকসিটি হাউজিং সোসাইটি প্রকল্পে বিগত ১৭ বরেও ৯৮ জনের বরাদ্দ মেলেনি। এ কারণে তারা চরম অনিশ্চয়তা ও হতাশায় ভুগছেন।

সোমবার, ২৫ জুলাই চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সন্মেলনে এসব কথা জানান চট্টগ্রাম লেকসিটি হাউজিং সোসাইটির প্লট বঞ্চিতরা। প্লট বঞ্চিত আবেদন কারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চট্টগ্রাম লেকসিটি হাউজিং সোসাইটির আহ্বায়ক, রেমিটেন্স যোদ্ধা সৈয়দ মুহাম্মদ আবুল হাশেম।

তিনি বলেন, ২০০৬ সালে চট্টগ্রাম নগরবাসীর জন্য পরিকল্পিত আবাসস্থল নির্মাণে নগরীর আকবর শাহ থানাধীন ফয়’স লেক কৈবল্যধাম সংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় চট্টগ্রাম লেকসিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। সেসময় ৩৫ কোটি টাকায় ৩০/৩১ একর জমি কেনা হয় প্রকল্পের জন্য। আড়াই কাঠার প্রতিটি প্লট ২২ লাখ টাকা করে ৫৪ জন এবং বাকিরা ১৭ লাখ টাকায় কিনেছিলেন। দুই দফায় মোট ৫৪৮ জন এসব প্লট ক্রয় করেন।

আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালে এই প্রকল্পের সূচনা হয়। সময়ের ব্যবধানে কর্পোরেশনে কয়েকজন মেয়র দায়িত্ব পালন করে গেছেন। প্লটের জন্য আবেদনের ১৭ বছর পরও ৯৮ জন এখনো প্লট বরাদ্দ পাননি। কর্পোরেশন ৪৫০ জনের তালিকা করে প্লট ‘এ’, প্লট ‘বি’ এর মালিকানা বুঝিয়ে দেয়। বাকী ৯৮ জনের প্লটের এখনো কোনো প্রকার সুরাহা না হওয়ায় তারা অনিশ্চয়তা ও হতাশায় ভুগছেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মোঃ সালাহ উদ্দিন, মোঃ আবদুল হক, মোঃ নুরুল আলম, মোঃ আব্দুল কুদ্দুস, মিসেস রোকেয়া বেগম, মোঃ আব্দুল মান্নান, মোঃ নুরুল ইসলাম ও মিসেস সফুরা বেগম প্রমুখ।

এদিকে লেকসিটি হাউজিং সোসাইটির উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলন শেষে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে প্লট বঞ্চিত সদস্যদের নিয়ে মানববন্ধনের আয়োজন করেন।

এসময় বক্তারা বলেন, আমাদের বেশিরভাগ সদস্য করো গ্রামের সম্পত্তি, কারো পেনশনের টাকা, কারো বিদেশি কষ্টার্জিত অর্থ, কারো শেষ সম্বল স্ত্রীর গয়নাগাটি বিক্রি করে প্লট কেনার টাকা যোগাড় করে। আমরা বেশিরভাগই মধ্যবিত্ত। সারাজীবনের অর্জিত ও সঞ্চিত অর্থ দিয়ে প্লট কিনেও মালিকানা না পাওয়ায় আমাদের জীবনে হতাশা নেমে আসে।