চট্টগ্রামে পদ্ধতিগত টেকসই বিল্ডিং ডিজাইন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

98
চট্টগ্রামে পদ্ধতিগত টেকসই বিল্ডিং ডিজাইন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রামে পদ্ধতিগত টেকসই বিল্ডিং ডিজাইন বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত

মো. মুক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম থে‌কে: চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি (সিসিসিআই), প্র্যাক্সিস এবং আমব্রেলা পিএমসি’র যৌথ উদ্যোগে পদ্ধতিগত টেকসই বিল্ডিং ডিজাইন এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সেমিনার নগরীর একটি হোটেল অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথি চেম্বার সভাপতি মো. মাহবুবুল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে তীব্র দাবদাহ ও দাবানল সৃষ্টি হচ্ছে। কাজেই আমাদেরকে সবক্ষেত্রেই পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। চট্টগ্রামে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব আবাসিক স্থান ও শিল্প কারখানা নির্মাণে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা গ্রহণ করা যেতে পারে। প্রাকৃতিক আলো বাতাসের সদ্ব্যবহার করে অনেক জ্বালানী সাশ্রয় করা সম্ভব। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন জঙ্গল সলিমপুরে প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুন্ন রেখে নগরায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। কাজেই এ ধরনের আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা না হলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের অস্তিত্ব হারিয়ে যাবে। বর্তমান সরকারের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাগুলো ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করতে হবে। পরিবেশবান্ধব স্থাপনা নির্মাণে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। হেলদি হোম ও হেলদি ইন্ডাষ্ট্রি করার জন্য টেকসই প্রযুক্তি অত্যন্ত জরুরী যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে।

তিনি বর্তমানে পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে বলে মন্তব্য করে চীনের মহানগরগুলো থেকে ১ ঘন্টা দূরত্বে গড়ে তোলা টেকসই শহরের উদাহরণ তুলে ধরেন।

বিশেষ অতিথি চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর বলেন, চট্টগ্রামের জন্য টেকসই স্থাপনা একটি নতুন ধারনা। প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিকভাবে চট্টগ্রাম একটি সবুজ শহর। কাজেই চট্টগ্রামের স্থাপনাগুলোকে আরো বেশি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তোলা যায়। পরিকল্পিতভাবে পাহাড়গুলোকে পরিবেশবান্ধব আবাসিক এলাকা নির্মাণ করা যায়, যার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে জ্বালানী সাশ্রয়ী সবুজ নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। শিল্প খাতেও টেকসই প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে। লীড সার্টিফিকেশন (লীডারশীপ ইন এনার্জি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন) থাকলে সরকার ও বিদেশী ক্রেতাদের কাছ থেকে অনেক সুযোগ সুবিধা পাওয়া যায়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে আরো ‘গ্রীণার সিটি’-তে রূপান্তর করা যাবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

বিশেষ অতিথি বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, পৃথিবীর অন্যান্য অনেক দেশ টেকসই প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও বাংলাদেশ এক্ষেত্রে অনেক পিছিয়ে আছে। কাজেই এ বিষয়ে আমাদের কাজ করা দরকার। বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে ব্যয় সাশ্রয় মাথায় রেখে জ্বালানী সাশ্রয়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায়। তবে এসব প্রকল্পে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে খরচ কমানো গেলে ‘সাসটেইন্যাবল কনসেপ্ট’ কার্যকর হবে। তিনি তৈরিপোশাকের বাইরেও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির মাধ্যমে আরো বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন। অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মো. মাহবুবুল, বিশেষ অতিথি চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর ও বিজিএমইএ’র ১ম সহ-সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠানের পক্ষে পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন প্র্যাক্সিস’র প্রতিষ্ঠাতা প্রধান নির্বাহী স্থপতি নাজলী হোসেন, আমব্রেলা পিএমসি’র সিইও ইকবাল চৌধুরী এবং ট্রাইটেক’র পরিচালক আবু আল মোতালিব।

এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালকবৃন্দ এ. কে. এম. আক্তার হোসেন, মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), অঞ্জন শেখর দাশ, মোঃ ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক আলমগীর পারভেজসহ নির্মাণ খাতের বিভিন্ন নেতৃস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।