চট্টগ্রামে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে কোমড় পানি : দূর্ভোগে নগরজীবন

106
চট্টগ্রামে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে কোমড় পানি : দূর্ভোগে নগরজীবন
চট্টগ্রামে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে কোমড় পানি : দূর্ভোগে নগরজীবন

মো.মুক্তার হোসেন বাবু,চট্টগ্রাম ব্যুরো: বন্দর নগরী চট্টগ্রামে এক ঘন্টার বৃষ্টিতে নিন্ম এলাকাগুলো পানিতে ডুবানো ছিল। যার ফলে নগরবাসীর দূর্ভোগের শেষ ছিলনা। একই সাথে স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও পড়তে হয়েছে বিপাকে। গতকাল শনিবার সকালের এক ঘন্টার বৃষ্টিতে এমন চিত্র দেখা গেছে। ঘণ্টাব্যাপি এই ভারি বর্ষণে নগরের

সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। সড়কের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার বাসা-দোকানেও ঢুকে পড়েছে পানি। নালা আটকে থাকায় বিভিন্ন উঁচু এলাকার সড়কেও পানি জমতে দেখা গেছে।

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়া পূর্বাভাস কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ চৌধুরী বলেন, বর্ষার আগে প্রি মুন সুনের কারণেই এই অনিয়মিত বৃষ্টি হচ্ছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। পরবর্তীতে সকাল ৯টা দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। অর্থাৎ সকাল ৬টা থেকে ১২টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টির আগে ঘন্টায় ৫০ কিলোমিটার বেগে বাতাস বয়ে যায়।

এদিকে সকাল থেকে ১২টা পর্যন্ত মাত্র ৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই নগরের বিভিন্ন এলাকা হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে। ছোট-বড় নালাগুলোর আবর্জনা অপসারণ না করায় সামান্য বৃষ্টিতেও এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ নগরবাসীর। সেইসঙ্গে বৃষ্টিতে দুই নম্বর গেইট থেকে মুরাদপুরের দিকে সড়কের দুইপাশ এবং জিইসি

মোড়ের দিকে সড়কের বড় অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়াও ওয়ারল্যাস গেইট এলাকায়ও নালা উপচে হাঁটু পানি জমে থাকতে দেখা গেছে। অন্যদিকে, হাঁটু থেকে কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে নগরের প্রবর্তক মোড় এলাকা। শুলকবহর, কাতালগঞ্জ এলাকায় বিভিন্ন অলিগলিতেও হাঁটু পানি মাড়িয়ে পথ চলতে দেখা গেছে সেখানকার

বাসিন্দাদের। এছাড়া বহদ্দারহাট, বাদুরতলা, চকবাজার, কাপাসগোলা, পশ্চিম বাকলিয়া এলাকায় জলাবদ্ধতার পাশাপাশি জামালখান, বাগমনিরাম, আন্দরকিল্লা, শুলকবহর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায়ও জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।

আল ফালাহা গলি থেকে হাঁটু পানি ডিঙ্গিয়ে নগরীর দুই নং গেইট রাস্তায় আসা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের হোসেন আহমেদ স্কুল এন্ড কলেজের ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী সীমা পাল বলেন, সকালে হুট করে বৃষ্টি শুরু হওয়াতে বাসা থেকে বের হতে পারছিলাম না। আমার অভিভাবকরা আমাকে স্কুলে যেতে বারণ করেছিলেন। ক্লাস মিস হবে বলে

স্কুলে যাই। কিন্তু বৃষ্টির গতি একটু কমতেই যেই না বের হলাম দেখি রাস্তায় হাঁটু পানি। এই বৃষ্টিতেই যদি এত জলাবদ্ধতা হয়, তাহলে সামনের দিনগুলোতে আমাদের কপালে যে কি আজান্নাত নামে এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, সকালের বৃষ্টিতে রাস্তায় অনেক যানজট ছিল। জলাবদ্ধতার কাজ করায় বাঁধগুলো বন্ধ করা আছে। যার কারণে একটু

বৃষ্টি হলেই আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। শুধু যে এখানে পানি উঠে তা না। আশেপাশের অনেক নিচু এলাকার নালার পানি ভর্তি সেগুলো গড়িয়ে আবার রাস্তায় আসছে। এ বিষয়ে জানতে জলাবদ্ধতা স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি ও কাউন্সিলর মোবারক আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাকে পাওয়া যায়নি।