গ্রেফতার আতঙ্কে ভাংবাড়ীর অধিকাংশ বাড়ি পুরুষ শূন্য

62
নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাতদের নামে মামলা হওয়ার পর গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়ি ছেড়েছেন। জনমানবহীন শুনশান পুরো এলাকা। কোন গাড়ি দেখলেই পালিয়ে যাচ্ছেন নারী ও শিশুরা।
নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাতদের নামে মামলা হওয়ার পর গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়ি ছেড়েছেন। জনমানবহীন শুনশান পুরো এলাকা। কোন গাড়ি দেখলেই পালিয়ে যাচ্ছেন নারী ও শিশুরা।

আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার বাচোর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের একটি ভোটকেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণার পর পুলিশের গুলিতে মাথার খুলি উড়ে গিয়ে ৯ মাস বয়সী শিশু নিহতের ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় দেশজুড়ে। সেদিন গুলিবর্ষণের ঘটনায় আহত হন আরও বেশ কয়েকজন।

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ও দুই সহকারী পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রায় ৮০০ জনের বিরুদ্ধে থানায় পৃথক তিনটি মামলা করেন।

নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় অজ্ঞাতদের নামে মামলা হওয়ার পর গ্রামের অধিকাংশ পুরুষ বাড়ি ছেড়েছেন। জনমানবহীন শুনশান পুরো এলাকা। কোন গাড়ি দেখলেই পালিয়ে যাচ্ছেন নারী ও শিশুরা।

স্থানীয় সালেহা বেগম বলেন, অজ্ঞাতনামা মামলা হওয়ার পর রাতে কোনো মোটরসাইকেল অটো অথবা কৃষিকাজে ব্যবহৃত মহেন্দ্র গাড়ীর শব্দ শুনলেই মনে হচ্ছে এই বুঝি পুলিশ আসিলো। পুরুষরা তো সেদিনের ঘটনার পর থেকেই বাড়িতে থাকেন না। গ্রামের এই মসজিদে আজানও কেউ দেয় না। আর মসজিদে নামাজও কেউ পড়ে না।

মঙ্গলবার (২ আগস্ট) সকালে সরেজমিনে ভাংবাড়ী মহেশপুর গ্রামে গেলে এমন চিত্র চোখে পড়ে।

গত ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টার দিকে ৫ নম্বর বাচোর ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভাংবাড়ি ভিএফ নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে পুলিশ-জনতার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত হয় শিশু সুরাইয়া আক্তার আশা। সে উপজেলার মীরডাঙ্গী আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মো. বাদশা আলীর মেয়ে।

ওই কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর পরাজিত প্রার্থীর সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। তখন পুলিশ হামলা ঠেকাতে গুলি ছোঁড়ে। শিশুটি তখন মায়ের কোলে ছিল।

এদিকে ঘটনার তদন্তে কাজ শুরু করেছে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটি।

সোমবার (১ আগস্ট) বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের একটি তদন্ত কমিটি ।

এসময় জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট রামকৃষ্ণ বর্মন, সহকারী পুলিশ সুপার (পীরগঞ্জ সার্কেল) আহসান হাবীব, জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সহকারী পুলিশ সুপার (রাণীশংকৈল সার্কেল) তোফাজ্জল হোসেন, রাণীশংকৈল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিত সাহা, রাণীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম জাহিদ ইকবাল ও ঠাকুরগাঁও ডিএসবি ওসি-২ ইসমাইল হোসেনসহ আইনশৃঙ্খারক্ষা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট রামকৃষ্ণ বর্ম্মন বলেন, ঘটনাস্থল পরির্দশন করা হলো। প্রয়োজনে আরও তদন্ত করা হবে। ৭ কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের বরাবরে জমা দেওয়া হবে।