খাগড়াছড়িতে বৈসু উৎসবে মেতেছে ত্রিপুরা সম্প্রদায়

169

বিপ্লব তালুকদার ,খাগড়াছড়ি:নব আনন্দের বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে পাহাড়ে আসে বৈসাবি। খাগড়াছড়িতে বর্ষবিদায় এবং বর্ষবরণে উদযাপন করা হয় বৈসাবি উৎসব। উৎসব, আনন্দে জেগে উঠে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরতরা। পাহাড়ে বসে মিলনমেলা।

খাগড়াছড়িতে শুরু হয়েছে ত্রিপুরা প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু উৎসব। পুরাতন বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করতে এবারও আয়োজন করা হয়েছে বৈসু নানা উৎসব।

খাগড়াছড়িতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ত্রিপুরাদের প্রধান সামাজিক উৎসব বৈসু উপলক্ষ্যে সকালে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে বর্নিল শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রার বেলুন উড়িয়ে উদ্বোধন করেন উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাক্সফোর্স চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সাংসদ কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা। জেলার ত্রিপুরা নানা সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা নিজস্ব পোশাক পড়ে শোভাযাত্রায় এসময় অংশ নেয়।

শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শহরের টাউন হল প্রাঙ্গনে গিয়ে শেষ হয় এসময় ত্রিপুরাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরা হয় র‌্যালীতে। আয়োজন করা হয়েছে ত্রিপুরাদের এতিহ্যবাহী গড়িয়া নৃত্য।
প্রাঁণের উচ্ছ্বসে সকলের মন মাতিয়ে মনের রঙে আর আনন্দের যুক্ত মাত্রায় পল্লীতে পল্লীতে আত্মহারা হয়ে উঠে নানা বয়সের মানুষ। অরণ্যেঘেরা সবুজ পাহাড় বর্ণিল ঐতিহ্যবাহী পোশাক আর কৃষ্টি,সংস্কৃতিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষগুলো পালন করে বৃহত্ত এই উৎসব।
এ উৎসবকে জাতি ভেঁদে ভিন্ন ভিন্ন নামে পালন করে থাকে। মুলত চাকমারা ‘বিঝু’, ত্রিপুরাদের ভাষায় ‘বৈসুক’, মারমাদের ভাষায় ‘সাংগ্রাই’, তংচঙ্গ্যাদের ভাষায় ‘বিসু’ এবং অহমিয়াদের ভাষায় বলা হয় ‘বিহু’। তবে ত্রিপুরা, মারমা এবং চাকমা এই তিন নৃগোষ্ঠীর উৎসবের নামের আদ্যক্ষর মিলিয়ে পাহাড়িদের এই উৎসবের নামকরণ হয়েছে ‘বৈসাবি’ ।

এ সময় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু , পুলিশ সুপার মো: আব্দুল আজিজ, জেলা পরিষদ সদস্য আশুতোষ চাকমা, সদস্য শতরূপা চাকমা , সদস্য শাহীনা আক্তার , সহ বিভিন্ন সামরিক-বেসমারিক,রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা এতে অংশ নেয়।