ক্লাউড সল্যুশন নিয়ে এলো হুয়াওয়ে

93
ক্লাউড সল্যুশন নিয়ে এলো হুয়াওয়ে
ক্লাউড সল্যুশন নিয়ে এলো হুয়াওয়ে

ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বৈশ্বিক সিনারিও-বেজড ফার্স্ট স্যুট ক্লাউড সল্যুশন নিয়ে এসেছে হুয়াওয়ে।

সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত ‘উইন-উইন ইনোভেশন উইক’ শীর্ষক এক অনলাইন সম্মেলনে হুয়াওয়ে ক্যারিয়ার আইটি মার্কেটিং অ্যান্ড সেলসের পরিচালক চ্যান শুয়েজুন নতুন এই সল্যুশনের ঘোষণা দেন। সল্যুশনগুলোতে মনিটাইজিং নেটওয়ার্ক, ইনোভেটিং সার্ভিস (উদ্ভাবনী সেবা) এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমকে সহজ করার ওপর আলোকপাত করা হয়, যাতে করে ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড রূপান্তর ও তাদের প্রবৃদ্ধিকে ত্বরাণ্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

সামনের দিনগুলোতে টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ফাইভজি’র অগ্রগতি, ক্লাউড কম্পিউটিং, বিগ ডেটা ও এজ কম্পিউটিং এবং ক্লাউড ট্রান্সফরমেশন (রূপান্তর) ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। গার্টনারের তথ্য মতে, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো ক্লাউড রূপান্তরে বিনিয়োগ বাড়াবে, যার সম্মিলিত বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার (সিএজিআর) দাঁড়াবে ২৭ শতাংশ। হুয়াওয়ে এর তিন দশকেরও বেশি সময়ের টেলিকম খাতে কাজের অভিজ্ঞতা এবং ক্লাউডের দক্ষতাকে ক্যারিয়ার ক্লাউড রূপান্তরের জন্য নিম্নলিখিত মূল কারণগুলো চিহ্নিত করেছে। প্রথমত, ক্যারিয়ারের নিজস্ব সুবিধার ওপর ভিত্তি করে একটি রূপান্তর কৌশল নির্বাচন করা; দ্বিতীয়ত, ডেটা সুরক্ষা, সিস্টেম অ্যাবিলিটি (সিস্টেমের স্থিতিশীলতা) এবং পরিষেবার তৎপরতা (সার্ভিস অ্যাজিলিটি) বিবেচনা করে একটি রূপান্তরমূলক প্রক্রিয়ার পথকে সুগম করা; এবং তৃতীয়ত, দুই পক্ষের জন্য লাভজনক সহযোগিতার (উইন-উইন কোলাবোরেশন) ক্ষেত্রে একটি বিশ্বস্ত, অভিজ্ঞ এবং উপযুক্ত সহযোগী নির্বাচন।

প্রথমত, নেটওয়ার্ক+ক্লাউড মনিটাইজেশনের সুযোগ বিস্তৃত করে। হুয়াওয়ের নেটওয়ার্ক ইনসাইট এবং ক্লাউড-নেটওয়ার্ক কোলাবোরেশন সল্যুশনগুলো টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সেবা এবং সর্বোচ্চ নেটওয়ার্ক ভ্যালুর জন্য বাজার বিস্তৃত করতে সক্ষম করে তোলে। চীনের এন্টারপ্রাইজ গ্রাহকদের জন্য হুয়াওয়ে ক্লাউড একটি ক্লাউড+নেটওয়ার্ক+সিকিউরিটি ডেপ্লয়মেন্ট সল্যুশন প্রদান করে, যাতে করে মান বৃদ্ধির জন্য সমন্বিত আইসিটি সহ প্রথাগত সল্যুশনগুলোর কাভারেজ বিস্তৃত করা যায়।

দ্বিতীয়ত, সার্ভিস+ক্লাউড সেবার উদ্ভাবনকে ত্বরাণ্বিত করে। হুয়াওয়ে ক্লাউড টেলিকম খাতে হুয়াওয়ের অভিজ্ঞতাকে ব্যবহার করছে। এর ক্লাউড প্ল্যাটফর্মের সক্ষমতা ক্যারিয়ারের বিকাশকে দ্রুতগতির করবে এবং বাজারে উদ্ভাবন নিয়ে আসতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আফ্রিকা মহাদেশে হুয়াওয়ে ক্লাউডে একজন গ্রাহক মোবাইল ওয়ালেট প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন, যা সার্ভিস রোল আউটকে কয়েক মাস থেকে কয়েক সপ্তাহে কমিয়ে এনেছে এবং হুয়াওয়ে ক্লাউড ইকোসিস্টেম এ রোল আউটকে আরও কমিয়ে এক সপ্তাহে নিয়ে এসেছে।

তৃতীয়ত, অপারেশন+ক্লাউড কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়াবে। হুয়াওয়ে ক্লাউড প্রি-অপ্টিমাইজড ক্লাউড সল্যুশন সাধারণ টেলিযোগাযোগ সেবাকে ত্বরাণ্বিত করে, ইউজার স্কেল বিস্তৃত করে এবং মূল সেবার প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখে। এশিয়ার একটি ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠান এর ফাইভজি গ্রাহকদের মাত্র ১০ শতাংশকে প্রকৃত অর্থে ফাইভজি ডিভাইস ব্যবহারকারী হিসেবে বিবেচনা করে। হুয়াওয়ে বিজনেস সাপোর্ট সিস্টেম (বিএস্এস) ডেটার সমন্বিত বিশ্লেষণের জন্য ডিস্ট্রিবিউশন ডেটা লেক সল্যুশন ব্যবহার করে, কার্যক্রমগত দক্ষতার উন্নয়নে ভূমিকা রাখে এবং ফাইভজি ব্যবহার বৃদ্ধিতে মার্কেটিং কনভার্সনকে ১৮০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়।

চ্যান শুয়েজুন হুয়াওয়ে ক্লাউডের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তার বক্তব্য শেষ করেন। তিনি বলেন, “ক্যারিয়ার ক্লাউড ট্রান্সফরমেশনের (রূপান্তরের) মূল চাবিকাঠি হলো নেটওয়ার্ক, সেবা এবং কার্যক্রমের জন্য ক্লাউডের আরও ইতিবাচক ব্যবহার। রূপান্তর ও নতুন প্রবৃদ্ধির বিকাশে হুয়াওয়ে ক্লাউড বৈশ্বিক ক্যারিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে কাজ করবে।”

চীনের শেনঝেনে গত ১৮ থেকে ২১ জুলাই ‘উইন-উইন ইনোভেশন উইক’ অনুষ্ঠিত হয়। এ অনুষ্ঠানে বৈশ্বিক অপারেটর, খাত সংশ্লিষ্ট পেশাদার ব্যক্তিবর্গ এবং বিশেষজ্ঞরা ৫.৫জি, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল রূপান্তর নিয়ে আলোচনা করেন, যাতে ডিজিটাল অর্থনীতিতে একসাথে সবার প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়।

উল্লেখ্য, হুয়াওয়ে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান। সমৃদ্ধ জীবন নিশ্চিতকরণ ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি উন্নত ও সংযুক্ত পৃথিবী গড়ে তোলাই প্রতিষ্ঠানটির উদ্দেশ্য।

নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে হুয়াওয়ে একটি পরিপূর্ণ আইসিটি সল্যুশন পোর্টফোলিও প্রতিষ্ঠা করেছে, যা গ্রাহকদের টেলিকম ও এন্টারপ্রাইজ নেটওয়ার্ক, ডিভাইস এবং ক্লাউড কম্পিউটিং-এর সুবিধাসমূহ প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের ১৭০টির বেশি দেশ ও অঞ্চলে সেবা দিচ্ছে, যা বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ জনসংখ্যার সমান। এক লাখ ৯৭ হাজারের বেশি কর্মী নিয়ে বিশ্বব্যাপী টেলিকম অপারেটর, উদ্যোক্তা ও গ্রাহকদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করে ভবিষ্যতের তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সমাজ তৈরির লক্ষ্যে হুয়াওয়ে এগিয়ে চলেছে।

শীর্ষস্থানীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে, গত ২১ বছর ধরে বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি শিল্প, টেলিকম অপারেটর এবং স্থানীয় অংশীদারদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যার মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য-প্রযুক্তির সেবা পৌঁছে দিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নপূরণে অসামান্য ভূমিকা রেখে চলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া বিভিন্ন সিএসআর কর্মসূচী পরিচালনার মাধ্যমে সামাজিক ক্ষেত্রেও নানান অবদান রাখছে হুয়াওয়ে। অগ্রযাত্রার পথে, বাংলাদেশের সাথে এই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে হুয়াওয়ে।