ক্যান্সারে ভুগে চলে গেলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী

96
ক্যান্সারে ভুগে চলে গেলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী
ক্যান্সারে ভুগে চলে গেলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী

দীর্ঘদিন প্রাণঘাতী ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত পরাস্ত হলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া এমপি। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্থানীয় সময় আনুমানিক বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর।

সদ্যপ্রয়াত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়া দীর্ঘদিন ধরে প্রাণঘাতী ক্যান্সারে ভুগছিলেন। মৃত্যুকালে তিন মেয়ে, নাতি, নাতনিসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ।

তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শনিবার, ২৩ জুলাই সকালে প্রধানমন্ত্রী তার শোকবার্তায় ফজলে রাব্বী মিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। তিনি সদ্যপ্রয়াত ডেপুটি স্পিকারের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনাও জ্ঞাপন করেন।

ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদও গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপতি তার শোকবার্তায় বলেছেন, সংসদ পরিচালনায় মরহুম ফজলে রাব্বী মিয়ার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

সদ্যপ্রয়াত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীও গভীর দুঃখ ও শোক প্রকাশ করেছেন।

এর আগে এক ফেসবুক পোস্টে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন তার ভাই ফাহাদ রাব্বী। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসা চলাকালীন তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন স্থানীয় সময় আনুমানিক বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা)। তিনি আরও জানান, প্রায় ৯ মাস দুরারোগ্য ক্যান্সারে ভুগছিলেন তার ভাই। নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছিল।

সদ্যপ্রয়াত জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুর সময় হাসপাতালে তার পাশে ছিলেন তার বড় মেয়ে রিটা এবং একান্ত সচিব তৌফিকুল ইসলাম।

দুই বছর আগে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার স্ত্রী বিয়োগ ঘটে। ২০২০ সালে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তার স্ত্রী আনোয়ারা বেগম। সেই থেকে নিঃসঙ্গ জীবনযাপন করে আসছিলেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া।

১৯৪৬ সালে গাইবান্ধায় জন্ম হয়েছিল ফজলে রাব্বী মিয়ার। তিনি গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ছিলেন। সর্বশেষ ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাইবান্ধা-৫ (ফুলছড়ি-সাঘাটা) আসন থেকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে তিনি সপ্তমবারের মতো জয়ী হন।

১৯৫৮ সাল। সবেমাত্র অষ্টম শ্রেণিতে পা দিয়েছেন ফজলে রাব্বী মিয়া। সেই সময় ছাত্রাবস্থাতেই তিনি পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান মার্শাল ল জারি করলে তার বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমে প্রথম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন।

পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগ্রামে নিয়মিতভাবে অংশ নেন তিনি। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ করেন দেশপ্রেমিক এই রাজনীতিবিদ। ১১ নম্বর সেক্টরের যোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেন বীর এই মুক্তিযোদ্ধা।