কৃষ্ণ সাগরে নৌসেনা ঘাঁটিতে প্রশিক্ষিত ডলফিন মোতায়েন করেছে রাশিয়া

119

কৃষ্ণ সাগরে নৌসেনা ঘাঁটিতে প্রশিক্ষিত ডলফিন মোতায়েন করেছে রাশিয়া। এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডলফিন বাহিনীর কাজ হচ্ছে বন্দরে দাঁড়িয়ে থাকা রুশ যুদ্ধজাহাজগুলিতে কোনো হামলার চেষ্টার আগাম খবর দেওয়া।

গত ২৮ এপ্রিলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দি গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাশিয়া কৃষ্ণ সাগরে তার নৌ ঘাঁটিতে প্রশিক্ষিত সামরিক ডলফিন মোতায়েন করেছে। সম্ভবত একটি ডুবো আক্রমণ থেকে তার নৌবহরকে রক্ষা করার জন্য প্রশিক্ষিত ডলফিন মোতায়েন করেছে রাশিয়া।
স্যাটেলাইট চিত্রগুলির নতুন বিশ্লেষণ অনুসারে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটি হল সেভেস্তাপোল। সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে রুশ নৌবাহিনীর বেশ কয়েকটি রণতরী।

জানা গেছে, সেভেস্তাপোল ইউক্রেনীয় মিসাইলগুলির আওতার বাইরে। কিন্তু সমুদ্রপথে পানির নিচে রুশ জাহাজে হামলা চালাতে পারে জেলেনস্কি বাহিনী। তাই আগেভাগেই শত্রুর উপস্থিতি জানতে এবং কৃষ্ণসাগরে নিজেদের নৌসেনা ঘাঁটি বাঁচাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডলফিনদের পাহারায় রেখেছে রাশিয়া। উপগ্রহ চিত্রেও সেই ছবি ধরা পড়েছে।

গত ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান চালানোর পর থেকেই সেভেস্তাপোল নৌঘাঁটিতে ডলফিনের দু’টি দলকে মোতায়েন করেছে রাশিয়া। উপগ্রহ চিত্রে ধরা পড়েছে যে, সেভেস্তাপোল নৌঘাঁটিতে একাধিক যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে রাশিয়া। আমেরিকার ন্যাভাল ইনস্টিটিউটও সেই ছবি পর্যালোচনা করে বিষয়টি সুনিশ্চিত করেছে। সেনাবাহিনীর কাজে ডলফিনকে কাজে লাগানোর প্রক্রিয়া অবশ্য রাশিয়ায় প্রথম নয়। এর একটি ইতিহাস আছে। শত্রুপক্ষের ডুবুরিকে চিহ্নিত করা বা সমুদ্রে নীচে কোনো বিস্ফোরক এমনকি কোনো বস্তুকে উদ্ধার করে নিয়ে আসার কাজে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় ডলফিনগুলিকে।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, তৎকালীন সোভিয়েত নৌসেনা এই সেভেস্তাপোল বন্দরেই ডলফিনদের প্রশিক্ষণ দিত। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ায় ডলফিনদের এই শাখা নিয়ন্ত্রণ করতো ইউক্রেন। সেই সময় ক্রিমিয়া ইউক্রেনের অধীনে ছিল। তবে ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করে মস্কো। শুধু রাশিয়া নয়, আমেরিকাও ডলফিন বাহিনী তৈরি করেছে।

সূত্র: গার্ডিয়ান ও ওয়াশিংটন পোস্ট।