কুড়িগ্রামে জমজমাট কোরবানির পশুর হাট

79

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। কোরবানির সময় যত ঘনিয়ে আসছে ভূরুঙ্গামারী উপজেলার একমাত্র পশুর হাট ভূরুঙ্গামারী হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড় ততই বাড়ছে। ক্রেতারা বলছেন গরুর দাম বেশি। বিক্রেতারা বলছেন মাঝারি গরুর চাহিদ বেশি। সীমান্ত গলিয়ে পশুর হাটে আসছে ভারতীয় গরু। এতে লাভের হিসাব মেলাতে পারছেন না স্থানীয় খামারিরা। উপজেলার কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে প্রস্তুত রয়েছে প্রায় ২২ হাজার গবাদি পশু।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে প্রায় সাড়ে ২১ হাজার পশুর প্রয়োজন হবে। কৃষক ও খামারিরা মিলে প্রায় ২১ হাজার ৬০৩টি গবাদি পশু প্রস্তুত করেছেন। যার মধ্যে ৬ হাজার ৯২৭টি ষাঁড়, ৩ হাজার ১৭০টি গাভী, ১৬০ টি বলদ, ৮ হাজার ৭৫১টি ছাগল ও ২ হাজার ৫৯৫টি ভেড়া মোটাতাজা করা হয়েছে। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পরেও কিছু উদ্বৃত্ত থাকবে।

মঙ্গলবার ৫ জুলাই উপজেলার একমাত্র পশুরহাট ভূরুঙ্গামারী হাটে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে পশু নিয়ে হাটে এসেছেন কৃষক, খামারি ও গরু ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, কোরবানি উপলক্ষে ভূরুঙ্গামারীর কৃষক ও খামারিরা প্রতি বছর পশু মোটাতাজা করে থাকেন। গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধির পরেও কোরবানির পশুর দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয় ভূরুঙ্গামারীর পশু।

গরু বিক্রেতা মজিদ আলী বলেন, ফ্রিজিয়ান জাতের দু’টি বড় ষাঁড় নিয়ে হাটে এসেছি। ষাঁড় দু’টির দাম চাচ্ছি ছয় লাখ টাকা। ক্রেতারা চার লাখ টাকা দাম বলেছেন। এই দামে বিক্রি করলে লোকসান হবে।

খামারী মঞ্জুর আলী বলেন, গোখাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় একদিকে গরু পালনের খরচ বেড়ে গেছে। অপরদিকে ভারত থেকে গরু আসছে। এতে খামারিদের লোকসান হবে।
ফিরোজ নামের এক ক্রেতা বলেন, গরুর দাম বেশি। বিক্রেতারা মাঝারি সাইজের (৮০ থেকে ১০০ কেজি ওজনের) গরুর দাম চাচ্ছেন ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। মাঝারি সাইজের একটি গরু ৭০ হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, কোরবানির পশুর চাহিদা মেটাতে উপজেলায় প্রায় ২২ হাজার পশু মজুদ রয়েছে। পশুর হাটে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের মেডিক্যাল টিম পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন।