কুমিল্লায় দর্শনার্থীদের নজর কাঁড়ছে বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা

122
কুমিল্লায় দর্শনার্থীদের নজর কাঁড়ছে বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা
কুমিল্লায় দর্শনার্থীদের নজর কাঁড়ছে বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা

মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, কুমিল্লা প্রতিনিধি: কুমিল্লার নব শালবন বিহারের পাশে অবস্থিত দর্শনীয় এক স্থাপনা বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা। ঈদের ছুটিতে বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় ছিলো লক্ষনীয়। নব শালবন বিহার কুমিল্লা নগরীর কোটবাড়ি শালবন বিহার মাঠের পশ্চিম পাশে অবস্থিত। আকর্ষণীয় স্থাপনা বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা মূলত

বৌদ্ধ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনালয়। শান্তি প্যাগোডার সোনালি রঙের ডিজাইন আর বুদ্ধ মূর্তিতে সূর্যের আলো পড়ে চারপাশ ঝলমল করে উঠে। পাশে রয়েছে বর্ণিল ফুলের মেলা।

নব শালবন বিহারের সূত্রমতে, ১৯৯৫ সালে দেড় একর ভূমির উপর নব শালবন বিহার প্রতিষ্ঠিত হয়। সেখানে ধর্মীয় উপাসনালয়, অনাথ আশ্রম, অতিথিশালা স্থাপন করা হয়। তার পাশে ২০১৭ সালে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যক্তির দানে বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা নির্মাণ করা হয়। বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ১৮ কোটি টাকা। এর উপরে

উঠার তিন দিকে সিঁড়ি রয়েছে। উঠার মুখে রয়েছে সোনালি রঙের নাগরাজের প্রতিকৃতি। ২য় তলায় পূর্ব পাশে বড় আকারের বুদ্ধ মূর্তি। ২য় তলায় উপাসনালয়। ৩য় ধাপে চার পাশে চারটি মূর্তি। সেগুলো শ্রীলংকান, থাইল্যান্ড, জাপানিজ ও গান্দারা (ভারত) অঞ্চলে প্রচলিত মূর্তির আকৃতিতে তৈরি। তার উপরের ধাপে চারটি পিতলের চূড়া।

সবার উপরে পিতলের বড় চূড়া। সেটির ওজন পাঁচ টন, আনা হয় থাইল্যান্ড থেকে। দরজায় করা হয়েছে থাই গাছের কাঠের নকশা। ফি দিয়ে দর্শনার্থীরা বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা দেখতে আসেন।

নব শালবন বিহারে গিয়ে দেখা যায়, বিশ্ব শান্তি প্যাগোডায় শেষ বিকালের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। সোনালি রঙের নকশা আর স্থাপনায় আলো পড়ে বর্ণিল পরিবেশের সৃষ্টি

করেছে। বিশ্ব শান্তি প্যাগোডার উত্তর পাশে বর্ণিল ফুলের মেলা। উপাসনালয় হওয়ায় প্রবেশের পর দর্শনার্থীরা জুতা খুলে আঙিনায় প্রবেশ করছেন। দর্শনার্থীদের মাঝে বৌদ্ধ ছাড়াও রয়েছে মুসলিম, হিন্দুসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ।

নব শালবন বিহারে ঘুরতে আসা শামিউর রহমান বলেন, শালবন বৌদ্ধ বিহার, ময়নামতি জাদুঘরের পাশে বিশ্ব শান্তি প্যাগোডার স্থাপন নতুন সংযোজন। দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।

নব শালবন বিহারের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ শ্রীমৎ শীলভদ্র মহাথের বলেন, ঈদের ছুটি চলাকালীন সময়ে বিশ্ব শান্তি প্যাগোডা দেখতে দর্শনার্থীদের প্রচুন ভিড় ছিলো। ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলে আমাদের প্রত্যাশা। 

তিনি আরো বলেন, এখানে অনাথ আশ্রমে ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ৪০ জন শিক্ষার্থীর খরচ চলে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায়। আরো সহযোগিতায় পেলে অনাথ আশ্রম ভালো ভাবে চালাতে পারবো।