কুড়িগ্রামে দুই বছর ধরে এক শিক্ষক দিয়েই চলছে স্কুল

96

মোঃ বুলবুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : কুড়িগ্রামের চিলমারীতে গত দুবছর ধরে একটি স্কুলে একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিন শিক্ষক সংকটের কারণে স্কুল থেকে ঝরে পড়েছে অনেক শিশুই। অর্ধেক শিক্ষার্থী চলে গেছে অন্য প্রতিষ্ঠানে। এমন অবস্থায় এলাকাবাসীর বারবার অনুরোধ সত্বেও মেলেনি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ। ফলে স্কুলের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের মুখে পড়েছে।

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চিলমারী নৌ-বন্দর থেকে শ্যালো নৌকায় দেড় ঘন্টা পর পৌঁছানো যায় চিলমারী উপজেলার অস্টমীর চর ইউনিয়নের ডাটিয়ার চর গ্রামে অবস্থিত নটারকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা খাতুন জানান, তিনি একাই গত দু’বছর ধরে স্কুলে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্কুলটি ১৯৯১ সালে ব্রহ্মপূত্র নদের কোলে অবস্থিত নটারকান্দি গ্রামে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৮ সালে স্কুলটি নদী গর্ভে বিলিন হলে ওই বছর পার্শ্ববর্তী ডাটিয়ার চরে স্কুলটি পূণরায় প্রতিষ্ঠা করা হয়। সেই থেকে স্কুলটি এখানেই রয়েছে। ২০১৩ সালে স্কুলটি জাতীয়করণের সময় ৫জন শিক্ষক দিয়ে স্কুলের পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এরপর ২০২০ সালে পর্যায়ক্রমে স্কুলের ৪ জন শিক্ষক অবসরে যান । এরপর থেকে ওই বিদ্যালয়ে আর কোন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হয়নি। ফলে গত দু’বছর ধরে একজন শিক্ষক দিয়ে স্কুল পরিচালনা করায় শিক্ষার্থী ঝরে পরে বেহাল দশা হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির।

স্কুলের হাজিরা খাতা অনুযায়ী বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৮৭জন।  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রোজিনা খাতুন জানান, প্রধান শিক্ষক  আমজাদ হোসেন ২০২০ সালে অবসরে যান। এরপর একই বছর সহকারি শিক্ষক আছির উদ্দিন, আব্দুস ছামাদ ও সোলায়মান হোসেন অবসরে গেলে আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। আমার একার পক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা খুবই কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে। এজন্য জরুরী ভিত্তিতে ৫টি শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ দেয়া জরুরি হয়ে পরেছে।

স্কুলের অভিভাবক মাহমুদ আলী, স্থানীয় অধিবাসী জহুরুল ইসলাম ও জব্বার আলী শূন্যপদে চরাঞ্চলের শিক্ষিত ছেলেমেয়েদের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়ারও দাবি জানান। স্কুলের ৩য় শ্রেণির শিক্ষার্থী সীমা, মেরিনা ও ফারিয়া এবং ৪র্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোজাহিদ ও আখতারুন জানায়, স্কুলে শিক্ষক না থাকায় সিলেবাস অনুযায়ী পড়াশুনা হচ্ছে না। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে গেছে।

চিলমারী উপজেলা সহকারি শিক্ষা অফিসার একেএম জাকির হোসেন বলেন, আমি চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে উপজেলায় যোগদান করেছি। নানা ব্যস্ততার কারণে স্কুল পরিদর্শন করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুবুর রহমান জানান, জেলা উন্নয়ন কমিটির সভায় বিষয়টি আমার নজরে আসে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক আমাদেরকে নির্দেশনা দিয়েছেন। এর আলোকে ২/৩ জন খন্ডকালিন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে যাদের বেতন উপজেলা প্রশাসন থেকে ব্যয় করা হবে। পরবর্তীতে শিক্ষক নিয়োগ হলে এই সমস্যা আর থাকবে না।