এবার ডা. মুরাদের কপাল ফাটলো মাথায় সিলিং ফ্যান পড়ে (ভিডিও)

106

নানা উল্টা-পাল্টা মন্তব্য আর বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে দেশেজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছিলেন সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসান। সর্বশেষ চিত্রনায়িকা মাহির সঙ্গে কেলেংকারির ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর ডা. মুরাদের কপাল পুড়েছে আগেই। মন্ত্রীত্ব পর্যন্ত হারাতে হয়েছে তাকে। এবার তার কপাল ফাটলো মাথায় সিলিং ফ্যান পড়ে। আহত মুরাদের কপালে তিনটি সেলাইও দিতে হয়েছে।

সম্প্রতি মাথায় সিলিং ফ্যান পড়ে কপাল ফেটে যায় বহুল আলোচিত সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ ডা. মুরাদের। সম্প্রতি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দৌলতপুরে নিজের বাড়িতেই এই দুর্ঘটনার মুখে পড়েন তিনি।

কপাল ফেটে যাওয়ার পর ডা. মুরাদের কপালে তিনটি সেলাই দেওয়া হয়। দুর্ঘটনার পর থেকে নিজ বাড়িতেই বিশ্রামে আছেন সাবেক এই মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য।

গত বৃহস্পতিবার রাতে নিজ বাড়ির উঠানে টিনের শেড করা বৈঠকখানায় দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন ডা. মুরাদ। কথা বলার এক পর্যায়ে গরম অনুভব করায় ফ্যানের ঠিক নিচে গিয়ে বসেন তিনি। সেখানে বসার ঠিক কয়েক মিনিট পরই হঠাৎ তার মাথায় সিলিং ফ্যান খুলে পড়ে। ফ্যানের আঘাতে চেয়ার থেকে ছিটকে পড়ে যেতে উপক্রম হন তিনি। খুলে পড়া ফ্যানের আঘাতে তার কপাল ফেটে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত লোকজন ফ্যানটি ধরে ফেলেন। নইলে আরও মারাত্মক কিছু ঘটতে পারতো। ঘটনার পরপরই ডা. মুরাদের বাড়িতে কয়েকজন চিকিৎসককে পাঠাতে বলা হয়। তারা খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে পৌঁছে আহত মুরাদকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

উল্লেখ্য, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহির সঙ্গে আপত্তিকর কথোপকথনের একটি অডিও ফাঁসের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ডা. মুরাদ হাসান। একইদিন জামালপুর জেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যাবিষয়ক সম্পাদকের পদ হারান তিনি। শুধু তাই নয়, পরদিন ৮ ডিসেম্বর সরিষাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ ও আওনা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্যপদ থেকেও তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ঘটনার পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠলে দেশত্যাগের চেষ্টাও করেছিলেন ডা. মুরাদ। কিন্তু বিদেশের মাটিতে তাকে পা রাখতে না দেওয়ায় বাংলাদেশে ফিরে আসতে বাধ্য হন তিনি। এরপর থেকে সরিষাবাড়ীর নিজ বাড়িতেই আছেন বিতর্কিত এই চিকিৎসক ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে ডা. মুরাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়নি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ। সর্বশেষ গত ৭ মে দলটির কার্যনির্বাহী সংসদের সভা হলেও ডা. মুরাদের বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি সেই সভায়।