উধাও বাসের টিকিট!

180
উধাও বাসের টিকিট!
উধাও বাসের টিকিট!

বছর ঘুরে আবারও দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদের আনন্দ। সেই ২০১৯ সাল থেকে করোনা মহামারিতে পর্যুদস্ত হয়ে অনেকটাই মিইয়ে গেছে ঈদের আনন্দ। ঘরবন্দী ঈদ কাটিয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে মানুষ। তবে দেশে করোনা পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হওয়ায় এবার নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দে মেতে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উৎসবপ্রিয় বাঙালি। বহু মানুষ নাড়ির টানে নিজ গ্রামে গিয়ে ঈদ পালন করতে উন্মুখ হয়ে আছেন। কিন্তু বাধ সেধেছে বাসের টিকিট। বাসের কাউন্টারগুলো থেকে উধাও হয়ে গেছে টিকিট। বিষয়টি রীতিমতো ভাবিয়ে তুলেছে সাধারণ মানুষকে। তাদের মনে প্রশ্ন- ঈদে ঘরে ফেরা যাবে তো?

শুক্রবার, ২২ এপ্রিল রাজধানীর বিভিন্ন বাস টার্মিনালে এমন চিত্রই দেখা গেছে।

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চলতি এপ্রিল মাসের ১৫ তারিখ থেকেই বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হয়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ৩ মে সারাদেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। যদিও বিষয়টি নির্ভর করছে চাঁদ দেখার ওপর। বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরুর এক সপ্তাহের মাথায় ২৯ ও ৩০ এপ্রিল এবং ১ মে তারিখের সব অগ্রিম টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে বাস কাউন্টারগুলো থেকে।

গাবতলী বাস টার্মিনালের একাধিক বাস কোম্পানির কাউন্টার থেকে জানানো হয়, ২৯-৩০ এপ্রিল ও ১-২ মে তারিখের সব টিকিট শেষ হয়ে গেছে।

রাজধানীর টেকনিক্যালে অবস্থিত সাকুরা পরিবহনের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, বরাবরের মতো এবারও শিক্ষার্থীরা একটু আগেভাগেই ঘরে ফিরছেন। ২৭-২৮ এপ্রিল তারিখের টিকিটের চাহিদাই বেশি তাদের কাছে। অন্যদিকে চাকরিজীবীরা চাইছেন ২৯-৩০ এপ্রিল তারিখে ঢাকা ছাড়তে। শুরুর দিকে বাসের অগ্রিম টিকিট কিনতে অনেক যাত্রী কাউন্টারে এলেও এখন সেই চাপ আর নেই। চাপ নেই, টিকিটও নেই। এখন যে দু-চারজন যাত্রী টিকিট কিনতে কাউন্টারে আসছেন তারা পছন্দের দিনের টিকিট চেয়েও পাচ্ছেন না।

অন্যদিকে যাত্রীরা অভিযোগ তুলেছেন, বাসের টিকিট থাকার পরও বাস কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে না। এমনকি এসি বাসের টিকিট চাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না। এভাবে কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি করে শেষ মুহূর্তে চড়া দামে টিকিট বিক্রির পাঁয়তারা চলছে।

ভুক্তভোগী এক যাত্রীর অভিযোগ, বাসের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি ২৯ তারিখের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। ঘণ্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়েও ২৯ তারিখের টিকিট পাননি। বাস কাউন্টার থেকে তাকে শুক্রবার খোঁজ নিতে বলা হয়েছিল। যাত্রী চাহিদা থাকলে বাসের সংখ্যা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছিল। কিন্তু শুক্রবারও যথারীতি টিকিট পাননি তিনি। তাকে ২ মে তারিখের টিকিট ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

হানিফ এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় ২৯ ও ৩০ এপ্রিল এবং ১ মে তারিখের টিকিট শেষ হয়ে গেছে। নোটিশ বোর্ডেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। তবে যাত্রীচাপ বেশি হলে অতিরিক্ত বাস নামানোর সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে হানিফ এন্টারপ্রাইজের পক্ষ থেকে। তবে সেক্ষেত্রে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।