ইটের আঘাতে আহত নাহিদকে পেটায় সিয়াম, কোপায় ইমন (ভিডিও)

156

ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ীদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ চলার সময় ইটের আঘাতে আহত হয়ে চন্দ্রিমা মার্কেটের সামনে লুটিয়ে পড়েন ডেলিভারি ম্যান নাহিদ। এসময় নাহিদকে রড দিয়ে বেদম মারধর করে আহত করেন ঢাকা কলেজের ছাত্র মাহমুদুল হাসান সিয়াম। এর পরপরই ধারালো অস্ত্র দিয়ে নাহিদকে কোপান ইমন।

সিসিটিভি ফুটেজ ছাড়াও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও এবং স্থিরচিত্র দেখে নাহিদ হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। ঘটনার পর পালিয়ে গেলেও সিয়ামের শেষ রক্ষা হয়নি। তাকে শরীয়তপুর থেকে ঠিকই গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব)। তবে নাহিদকে নির্মমভাবে কুপিয়েছে যে ইমন সে এখনও পলাতক রয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ৫ মে দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য প্রকাশ করেন র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি জানান, সিয়াম ছাড়াও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন- মেহেদী হাসান বাপ্পি (২১) ও মোয়াজ্জেম হোসেন সজীব (২৩)।

তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ইটের আঘাতে নাহিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তবে কার ইটের আঘাতে তিনি পড়ে যান তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নাহিদ মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পর তাকে রড দিয়ে বেধড়ক পেটান সিয়াম। এর পরপরই নাহিদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপান ইমন। তিনি পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা।

গুজব ও উস্কানিতে কান দিয়ে সিয়াম এমন পৈচাশিক কর্মকান্ডে জড়ান জানিয়ে কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, সিয়াম ঢাকা কলেজের থার্ড ইয়ারের ছাত্র। তিনি ঢাকা কলেজের ছাত্র হলেও ছাত্রাবাসে থাকতেন না। তিনি বাইরে থেকে এসে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে মিলে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

উল্লেখ্য, নিউ মার্কেটের ভেতরে অবস্থিত ওয়েলকাম ও ক্যাপিটাল ফাস্টফুড নামের দুটি দোকানের কর্মচারীর দ্বন্দ্ব থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত। গত ১৮ এপ্রিল রাত ১২টার দিকে ঢাকা কলেজের ছাত্রদের সঙ্গে নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সংঘর্ষ হয়। দুই ঘন্টারও বেশি সময় ধরে চলে সেই সংঘর্ষ। রাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কিন্তু ঘটনার পরদিন ১৯ এপ্রিল সকাল ১০টার পর থেকে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। রণক্ষেত্রে পরিণত হয় পুরো নিউমার্কেট এলাকা। দিনভর থেমে থেমে সংঘর্ষ চলতে থাকে।

সংঘর্ষে ছাত্র, ব্যবসায়ী, দোকান কর্মচারীসহ ৫০ জনেরও বেশি আহত হন। তাদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহত দুজনের মধ্যে একজন কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানির ডেলিভারিম্যান, আরেকজন দোকান কর্মচারী।