ইউরিয়া সারের মূল্যবৃদ্ধি

59
চাষাবাদের কাজে কৃষকের জন্য অপরিহার্য উপাদান ইউরিয়া সারের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতিকেজি ১৪ টাকা হতে বৃদ্ধি করে প্রতিকেজি ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতিকেজি ১৬ টাকা হতে বৃদ্ধি করে প্রতিকেজি ২২ টাকা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। পুনর্নির্ধারিত মূল্য ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
চাষাবাদের কাজে কৃষকের জন্য অপরিহার্য উপাদান ইউরিয়া সারের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতিকেজি ১৪ টাকা হতে বৃদ্ধি করে প্রতিকেজি ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতিকেজি ১৬ টাকা হতে বৃদ্ধি করে প্রতিকেজি ২২ টাকা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। পুনর্নির্ধারিত মূল্য ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

চাষাবাদের কাজে কৃষকের জন্য অপরিহার্য উপাদান ইউরিয়া সারের মূল্য বাড়ানো হয়েছে। দেশে ডিলার পর্যায়ে ইউরিয়া সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতিকেজি ১৪ টাকা হতে বৃদ্ধি করে প্রতিকেজি ২০ টাকা এবং কৃষক পর্যায়ে প্রতিকেজি ১৬ টাকা হতে বৃদ্ধি করে প্রতিকেজি ২২ টাকা পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। পুনর্নির্ধারিত মূল্য ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে। ইউরিয়া সারের ব্যবহার যৌক্তিক পর্যায়ে রাখতে এবং চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিকেজি ইউরিয়ার সারের বর্তমান দাম ৮১ টাকা। কাজেই ৬ টাকা দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে প্রতিকেজিতে ৫৯ টাকা ভর্তুকি দিতে হবে। অথচ ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রতিকেজি ইউরিয়া সারের ভর্তুকি ছিল মাত্র ১৫ টাকা।

২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সারের মূল্য চার দফা কমিয়ে অত্যন্ত স্বল্প দামে পর্যাপ্ত সার কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকার । ডিএপি সারে শতকরা ১৮ ভাগ নাইট্রোজেন বা ইউরিয়া সারের উপাদান রয়েছে। সেজন্য ডিএপির ব্যবহার বাড়িয়ে ইউরিয়া সারের অপ্রয়োজনীয় ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য সরকার ডিএপি সারের মূল্য প্রতিকেজি ৯০ টাকা থেকে কমিয়ে ১৬ টাকা করে কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগের কারণে বিগত কয়েক বছরে ডিএপি সারের ব্যবহার দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে ডিএপি ব্যবহার হতো ৮ লাখ টন। বর্তমানে ব্যবহার হচ্ছে ১৬ লাখ টন। ডিএপি সারের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমার কথা। কিন্তু বাস্তবে ইউরিয়া সারের ব্যবহার কমেনি। উল্টো বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে ইউরিয়া ব্যবহার হতো ২৫ লাখ টন। বর্তমানে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫০ হাজার টনে।

আন্তর্জাতিক বাজারে গত এক বছর ধরে সারের দাম বেড়েই চলেছে। এই সময়ে সারার দাম প্রায় ৩ থেকে ৪ গুণ বেড়েছে। এ কারণে দেশে সারে প্রদত্ত সরকারের ভর্তুকি বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৪ গুণ। ২০২০-২১ অর্থবছরে ৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয় সরকার। ২০২১-২২ অর্থবছরে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ হাজার কোটি টাকা।

ইউরিয়া সারের দাম বাড়ানো হলেও কৃষকের দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। কারণ চাহিদার বিপরীতে দেশে সব রকমের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। আমন মৌসুমে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ৬ লাখ ১৯ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে মজুত রয়েছে ৭ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন যা প্রয়োজনের চেয়ে প্রায় ১ লাখ টন বেশি। অন্যান্য সার যেমন টিএসপির আমন মৌসুমে চাহিদা ১ লাখ ১৯ হাজার টন, বিপরীতে মজুত আছে ৩ লাখ ৯ হাজার টন, ডিএপির চাহিদা ২ লাখ ২৫ হাজার টন, বিপরীতে মজুত আছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার টন এবং এমওপির চাহিদা ১ লাখ ৩৭ হাজার টন, বিপরীতে মজুত আছে ২ লাখ ১০ হাজার টন।