আর্ন্তজাতিক গুম সপ্তাহে ফেনীতে মানববন্ধন 

102
আর্ন্তজাতিক গুম সপ্তাহে ফেনীতে মানববন্ধন 
আর্ন্তজাতিক গুম সপ্তাহে ফেনীতে মানববন্ধন 

ফেনী প্রতিনিধি: গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে আর্ন্তজাতিক গুম সপ্তাহে ফেনীতে মানববন্ধন করেছে মানবাধিকার কর্মী ও গুমের স্বীকার হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনরা।

শনিবার (২২ মে) দুপুরে শহরের শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়কে ‘মায়ের ডাক’ শীর্ষক হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স নেটওয়ার্ক, ফেনীর আয়োজনে ‘গুম বন্ধ কর, গুমের শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দাও’ শ্লোগানে মানববন্ধনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধিকার ফেনীর ফোকালপার্সন ও দৈনিক মানবজমিনের ফেনী প্রতিনিধি নাজমুল হক শামীম।

মানববন্ধনে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গুমের স্বীকার হওয়া যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রৌশন আরা।

মানবাধিকার কর্মী আবদুস সালামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন ফেনী বিকন কলেজের প্রভাষক ও দীপ্ত টিভির জেলা প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক বনিক বার্তার জেলা প্রতিনিধি নুরুল্লাহ কায়সার, জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাপ্তাহিক স্বদেশ কন্ঠের সম্পাদক নুর তানজিলা রহমান, সাপ্তাহিক নিহারিকা পত্রিকার

নির্বাহী সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ফেনী গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ আলী নসু, গুমের স্বীকার হওয়া যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনের বড় ভাই মাহফুজুর রহমান, মেঝ ভাই মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। 

এ সময় গুমের শিকার রিপনের চাচা ওহিদুর রহমান, মানবাধিকার কর্মী এম ডি মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ ফটোজার্নালিস্ট এসোসিয়েশন ফেনী জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ও মানবাধিকার কর্মী মোস্তফা কামাল বুলবুল, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও মানবাধিকার কর্মী কাজী ইকবাল আহমেদ পরান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গুম সপ্তাহের মুল প্রবন্ধে জানানো হয়, মে মাসের শেষ সপ্তাহকে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সপ্তাহ পালন করা হয়। ১৯৮১ সালে ফেডারেশন অব এসোসিয়েশন ফর রিলেটিভস অব দি ডিটেইন্ড ডিসএ্যপিয়ার্ড নামের দক্ষিণ আমেরিকার একটি সংগঠন প্রথম পালন করা শুরু করে। এর পর থেকে গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করে চলেছে।

অধিকার এর তথ্য অনুযায়ী ২০০৯ সালের ১ লা জানুয়ারী থেকে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত দেশে ৬০৩ জন গুমের শিকার হয়েছেন বলে স্বজনরা দাবি করেছে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীর দ্বারা গুম ও বিচারবহির্ভূতভাবে মানুষ খুন হলো রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের চরম বহিঃপ্রকাশ। নিপীড়নকারী রাষ্ট্র ব্যবস্থা শুধু গুম বা ক্রসফায়ারের মতো ঘটনাই ঘটায় না, সমাজের প্রত্যেক ক্ষেত্রে ভিন্ন মতকে দমন করে। বাংলাদেশে কর্তৃত্ববাদী শাসন বহাল থাকায় মানবাধিকার চরমভাবে হুমকির সম্মুখিন হচ্ছে। জনগনের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং সব ধরনের অন্যায়-অবিচারের প্রতিকার করতে ভিকটিম পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশের জনগণকে মানবাধিকার লংঘনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ছাড়া আর কোন বিকল্প নেই।

মানববন্ধনে বক্তারা গুমের শিকার ব্যক্তিদের তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ফেনীর যুবদল নেতা মাহবুবুর রহমান রিপনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেওয়ার ৮বছরে পরিবার তার হদিস পায়নি। রিপনের মত আর কোন ব্যক্তি যেন গুমের শিকার না হয় সেজন্য রাষ্ট্রকে জোরালো ভূমিকা রাখার দাবি জানান। 

প্রসঙ্গত, ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর ‘গুম হওয়া থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। গুম হওয়া থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন-এমন একটি চুক্তি যা অনুস্বাক্ষর করার ক্ষেত্রে প্রতিটি রাষ্ট্রের আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে।