আম্মু ভাইয়া কি বেঁচে আছে

125
আম্মু ভাইয়া কি বেঁচে আছে
আম্মু ভাইয়া কি বেঁচে আছে

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ড ও বিস্ফোরণে নওগাঁর ছেলে রবিউল ইসলাম রবিন (২৭) নিখোঁজ হন। তিনি সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনে ফায়ারফাইটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আগুন নেভানোর কাজে তিনিও সেখানে অংশ নিয়েছিলেন। তার বাড়ি নওগাঁ শহরের চকপাথুরিয়া মহল্লার পূর্বপাড়ায়। সেখানকার খাদেমুল ইনলামের বড় ছেলে রবিউল। রোববার (৫ জুন) সকালে টেলিভিশনে খবর দেখে ছেলে নিখোঁজ হওয়ার সংবাদ পায় তার পরিবার।  

এরপর থেকে পরিবারটিতে বইছে শোকের মাতম।

গতকাল রোববার রাতে রবিউলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, কান্না করছে রবিউলের আদরের ছোট বোন রিমঝিম। কিছুতেই থামছে না তার কান্না। কান্না করছে আর বলছে, ‘আম্মু ভাইয়া ফোন রিসিভ করে না কেন? আমি ভাইয়ার সাথে কথা বলব। টিভিতে দেখলাম অনেক মানুষ মারা গেছে। আম্মু ভাইয়া কি বেঁচে আছে।’

রবিউল ইসলামরা তিন ভাই-বোন। রবিউল সবার বড়। বাবা কৃষক, মা গৃহিণী। চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে দেড় বছর আগে কর্মস্থল সীতাকুণ্ডের ফায়ার সার্ভিসে যোগ দেন। গত ঈদ-উল-ফিতরের দুইদিন আগে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসেন। ছুটি শেষে ঈদের পরদিন আবারও কর্মস্থলে ফিরে যান।

 রবিউল ছিল পরিবারের একমাত্র ভরসা ও উপার্জনক্ষম। ছেলেকে হারিয়ে মা বার বার বিলাপ করছেন। ছেলের ফেরত আসার অপেক্ষায় মা। স্বজনেরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ছেলের নিখোঁজের সংবাদে মনকে সান্ত্বনা দিতে পারছেন না মা। এদিকে ছেলের খোঁজ নিতে বাবা খাদেমুল ইসলাম গতকালই ছোট ছেলে রনিকে নিয়ে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের উদ্দেশ্যে গেছেন।

শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মা ফাইমা বেগমের সাথে ছেলে রবিউল ইসলামের মুঠোফোনে কয়েক সেকেন্ড কথা হয়েছিল। বলেছিলেন, পরে আবার কথা হবে। কিন্তু মা আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় আর কথা বলা হয়নি।

মা ফাইমা বেগম বলেন, ‘শনিবার রাতে এশার নামাজ পর ছেলের সঙ্গে সামান্য কথা হয়। ছেলে ব্যস্ত থাকায় পরে ফোন দিতে বলে। কিন্তু আমি আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে আর বাসায় আসতে না পারায় ছেলেকে ফোন দিতে পারিনি। সকাল ৫টার দিকে ছেলেকে ফোন দিলে অফিসে যে ডিউটিতে ছিল সে রিসিভ করে। তিনি তখন বলেন, রবিউল ডিউটিতে গেছে তার জন্য দোয়া করেন। সকাল ৮টার দিকে বাসায় এসে টেলিভিশন চালু করে দেখি আগুনের সংবাদ।’ বিস্ফোরণে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। তবে রবিউলের কোনো তথ্য এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

ছেলের ফিরে আসার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছেন তিনি।

‘ঈদের তিন দিন আগে ছেলে বাড়ি আসে। ঈদের পরদিন আবার চলে যায়। তবে সামনের ঈদে (ঈদ-উল-আযহা) ছুটি হবে না বলে জানায় ছেলে।’

এদিকে ছেলেকে খুঁজতে বাবা খাদেমুল ইসলাম সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনে যাওয়ার পর গতকাল রোববার রাতে সেখানকার কর্মকর্তারা রবিউলের সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারেনি। 

রবিউলের বাবা খাদেমুল ইসলাম জানান, সীতাকুণ্ড ফায়ার স্টেশনে যাওয়ার পর স্টেশনের কর্মকর্তারা ঢাকায় গিয়ে হতাহতদের নিজে দেখে শনাক্ত করতে বলেছেন। কিন্তু সেখানেও আমার রবিউল নাই।

কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি আরো বলেন, কর্মকর্তারা বলেছেন ডিএনএ টেষ্টের পর পাওয়া গেলে লাশ বাড়িতে পৌঁছে দিবে। ছেলেকে কোথাও খুঁজে পেলাম না বাবা অবশেষে বুক ভাঙ্গা কষ্ট নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি।