অলৌকিক! কমোডে সন্তান প্রসবের পৌনে দুই ঘন্টা পর পাইপ কেটে নবজাতক উদ্ধার (ভিডিও)

521

টয়লেটের কমোডে ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর কমোডের ফ্লাশের সঙ্গে ভেসে যায় নবজাতক। সে ফ্লাশের পানির সঙ্গে টয়লেটের পাইপের ভেতর ঢুকে যায়। অলৌকিকভাবে সেই পাইপের ভেতরেই পৌনে দুই ঘন্টার মতো বেঁচে থাকে সে।

প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা ধরে চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে পাইপ কেটে সদ্যভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তানকে উদ্ধার করেন তার মৎসজীবী বাবা। বিস্ময়কর এই ঘটনা ঘটেছে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

ভয়ংকর সেই অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে নবজাতকের বাবা নেয়ামত উল্লাহ বলেন, প্রায় পৌনে দুই ঘণ্টা আমার মেয়েটি টয়লেটের পাইপের মধ্যে ছিল। কীভাবে বেঁচে ছিল? বুঝতে পারছি না। আমার স্ত্রী বলেছে, সে প্রসব বেদনা বুঝতেই পারেনি। কখন, কীভাবে টয়লেটের কমোডে সন্তান প্রসব হয়ে গেছে সে কিছুই টের পায়নি।

নেয়ামত উল্লাহ আরও বলেন, টয়লেটে আমার স্ত্রীর সঙ্গে এক আত্মীয় ছিলেন। তিনি না দেখলে হয়তো আমার মেয়েকে আর ফিরে পেতাম না।

অন্যদিকে এমন অলৌকিকভাবে সদ্যভূমিষ্ঠ সন্তানকে জীবিত ফিরে পেয়ে যার পর নাই খুশি শিল্পী বেগম। অভূতপূর্ব এই ঘটনায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে তিনি বলেন, আল্লাহ আমার সন্তানকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। সবাই দোয়া করবেন, আমার মেয়ে যেন ভালো থাকে, সুস্থ থাকে।

সম্প্রতি শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তৃতীয় তলায় প্রসূতি ওয়ার্ডে ভর্তি হন অন্তঃসত্ত্বা শিল্পী বেগম। শনিবার, ৭ মে তার সিজার হওয়ার কথা ছিল। সেদিন প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে টয়লেটে ঢোকার পর কমোডের ভেতরে তার সন্তান প্রসব হয়ে যায়। কিন্তু তিনি কিছুই টের পাননি।

গুরুতরভাবে অসুস্থ থাকায় শিল্পী বেগমকে টয়লেটে নিয়ে যান তার সঙ্গে থাকা এক আত্মীয়। তিনি টয়লেটের ভেতরেই ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি কমোডে কিছু একটা পড়ে যেতে দেখেন। কিন্তু বিষয়টি বলার আগেই শিল্পী বেগম কমোডের ফ্লাশ করে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে কমোড থেকে পাইপে ঢুকে আটকে যায় নবজাতকটি।

এ প্রসঙ্গে নবজাতকের বাবা নেয়ামত উল্লাহ জানান, গুরুতর অসুস্থ হওয়ায় প্রথমে শিল্পী বেগমকে স্বরূপকাঠি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পর শিল্পী বেগমের শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সিজারের সিদ্ধান্ত নেন কর্তব্যরত ডাক্তার।

সিজার অপারেশন শুরু করার আগে নেয়ামতকে কিছু ওষুধ কিনে আনতে বলেন ডাক্তার। শনিবার দুপুরের দিকে ওষুধ কিনতে হাসপাতালের বাইরে যান তিনি। ওষুধ কিনে ফেরার পর দেখেন টয়লেটের সামনে অনেক লোকজন ভিড় করে আছেন। তার আত্মীয়-স্বজনরা কান্নাকাটি করছেন।

শ্বাসরুদ্ধকর সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নেয়ামত উল্লাহ বলেন, লোকজন বলাবলি করছিল, আমার স্ত্রী টয়লেটেই সন্তান প্রসব করেছে। হাসপাতালের একজন আমাকে টয়লেটের মধ্যে হাত দিতে বললেন। আমি পুরো হাত ঢুকিয়ে দিয়েও কিছু পাইনি। তখন কান পেতে শুনতে পাই, টয়লেটের পাইপের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ আসছে।

নেয়ামত উল্লাহ আরও বলেন, লোকজনের কাছে জানতে পারি, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি (ফায়ার সার্ভিসের জন্য) অপেক্ষা করিনি। কারণ আমার মেয়ে টয়লেটের পাইপে ঢুকে গেছে। যেভাবেই হোক তাকে বাঁচাতে হবে আমাকেই। এজন্য কারও অপেক্ষা না করে দ্রুত তিন তলা থেকে দোতলায় গিয়ে টয়লেটের পাইপ কেটে আমার সন্তানকে বের করে আনি।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধারের পর নবজাতক ও তার মা দুজনই সুস্থ রয়েছে। সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে তাদের পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নবজাতকের বাবা নেয়ামত উল্লাহ পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার গণমান শেখপাড়া বাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন মৎসজীবী। নেয়ামত উল্লাহ ও শিল্পী বেগমের চার বছর বয়সী আরেকটি সন্তান রয়েছে।