অভিনব ফাঁদ পেতে কোচিং সেন্টারে ছাত্রী ধ-র্ষ-ণ

778
অভিনব ফাঁদ পেতে কোচিং সেন্টারে কলেজপড়ুয়া ছাত্রীকে ধ-র্ষ-ণ
অভিনব ফাঁদ পেতে কোচিং সেন্টারে কলেজপড়ুয়া ছাত্রীকে ধ-র্ষ-ণ

আনোয়ার হোসেন আকাশ, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁওয়ে অভিনব ফাঁদ পেতে ২২ বছর বয়সী কলেজপড়ুয়া এক ছাত্রীকে দুজন মিলে ধ-র্ষ-ণ করেছে। ওই দুজনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ছাত্রী নিজেই।

নির্যাতিতা ওই ছাত্রী দুজনের নাম উল্লেখ করে সদর থানায় এই মামলা দায়ের করেন গত সোমবার। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে মামলার আসামী মো. পলাশ ওরফে ইউসুফ আলী (৩৬) কে গ্রেফতার করে। সে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের কাজীপাড়া গ্রামের সহিদুল ইসলামের ছেলে। অপর আসামী সাখাওয়াত হোসেন বেগুনবাড়ী ইউনিয়নের দানারহাট এলাকার ওসমান গনির ছেলে। তাকে ধরার চেষ্টা করছে পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, পৌরশহরের হাজীপাড়া (বৈশাখীমোড়) এলাকার বাসিন্দা ও বিএ প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রীর সাথে কিছুদিন পূর্বে আসামীদের পরিচয় হয়। এ সময় বড় মাঠের দক্ষিণ দিকে শহীদ মিনারের পেছনে বড় বাড়ির সম্মুখে জনৈক ধলু ও মনা মিয়ার ভাইয়ের ভাড়া বাসায় নিজেদের কোচিং সেন্টার আছে বলে ওই ছাত্রীকে জানায় তারা।

ওই ছাত্রীকে মোবাইল নাম্বার দেয় আসামী সাখাওয়াত হোসেন (৩৫) ও মো. পলাশ ওরফে ইউসুফ আলী (৩৬)। ওই ছাত্রীর মোবাইল নাম্বারও চেয়ে নেয় তারা। এক পর্যায়ে তারা তাদের কোচিং সেন্টারে ভর্তি হওয়ার জন্য ওই ছাত্রীকে অনুরোধ জানায়। একদিন কোচিং সেন্টারে গিয়ে ফ্রি ট্রায়াল ক্লাস করার জন্য যেতে বলে।

তাদের কথামতো ওই ছাত্রী গত ১৫ আগস্ট কোচিং সেন্টারে ক্লাস করতে যায়। ক্লাস শেষে বাড়ি ফেরার পথে সাখাওয়াত কৌশলে ছাত্রীর সমাজকর্ম বইটি রেখে যেতে বললে সে বইটি রেখে যায়। গত ৩১ আগস্ট বইটি ফেরত আনতে গেলে ওই ছাত্রী দেখতে পায় পলাশ কোচিং সেন্টারের প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে আছে। সে ওই ছাত্রীকে ভেতরে গিয়ে বইটি আনতে বললে সে ভেতরে প্রবেশ করে। এর পরপরই সাখাওয়াত হোসেন দরজা লাগিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে ওই ছাত্রীর মুখে ওড়না পেঁচিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে জোরপূর্বক ধ-র্ষ-ণ করে।

এ সময় পলাশ বাহিরে পাহারায় থাকে। ধ-র্ষ-ণে-র পর সাখাওয়াত বের হয়ে পলাশকে ভেতরে পাঠিয়ে দেয় এবং বাহিরে পাহারায় থাকে। এ সময় পলাশও ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক ধ-র্ষ-ণ করে। শুধু তাই নয়, মোবাইল ফোনে ধ-র্ষ-ণে-র ঘটনা ভিডিও করা রয়েছে বলেও ভয়-ভীতি দেখায় তারা। পরবর্তী সময়ে ওই ছাত্রীর পরিবার ঘটনাটি জানার পর সদর থানায় মামলা দায়েরের সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে মামলা সম্পর্কে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি, তদন্ত) আতিক হাসান মুঠোফোনে বলেন, উক্ত মামলার একজন আসামীকে ধরা হয়েছে। বাকী আসামী ধরার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।