অপশক্তির বিরুদ্ধে কৃষক-শ্রমিকসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

64
অপশক্তির বিরুদ্ধে কৃষক-শ্রমিকসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর
অপশক্তির বিরুদ্ধে কৃষক-শ্রমিকসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান কৃষিমন্ত্রীর

স্বাধীনতাবিরোধী ও দেশবিরোধী সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে দে‌শের বামদল, কৃষক, শ্রমিকসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলে‌ছেন, দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে স্বাধীনতাবিরোধী, ধর্মান্ধ ও দেশের উন্নয়নবিরোধী অপশক্তিরা এখনও তৎপর ও নানান পাঁয়তারা চালাচ্ছে। তারা দেশকে পিছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। কাজেই অপশক্তির বিরুদ্ধে দেশের বাম দল, কৃষক, শ্রমিকসহ সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের ৭ম জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই আহ্বান জানান কৃষিমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাংসদ ও বাংলাদেশ কৃষি ফার্ম শ্রমিক ফেডারেশনের উপদেষ্টা রাশেদ খান মেনন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশে ষড়যন্ত্রের রাজনীতি আর চলবে না। বাংলাদেশ কখনো শ্রীলংকা হবে না। তবে যারা দুর্নীতি করে বিশাল সম্পদ কুক্ষিগত করে রেখেছে তাদের স্বরূপ উন্মোচন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে কৃ‌ষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ব‌লেন, এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য ১৪ দল, ওয়ার্কাস পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টিসহ বিভিন্ন বাম রাজনৈতিক দল আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছি। এখন স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি ক্ষমতায় আছে বলে আমরা সারাবিশ্বে দেশটাকে মর্যাদার স‌ঙ্গে অনন্য উচ্চতায় তুলে ধরতে পেরেছি।

ড. আব্দুর রাজ্জাক জানান, ২০০৫-০৬ সা‌লে বিএনপির আমলে মোট উন্নয়ন বাজেট ছিল ২১ হাজার কোটি টাকা। আর ২০২২ সা‌লে সরকার শুধু সারেই ভর্তুকি দিচ্ছে ৩০ হাজার কোটি টাকা।

মন্ত্রী আরও জানান, আ‌গে বছরে সা‌রে ভর্তুকি লাগত ৭-৮ হাজার কোটি টাকা। দাম চারগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ বছর লাগছে ৩০ হাজার কোটি টাকা। তারপরও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারের দাম এক টাকাও বাড়াননি।

সরকারি প্রতিষ্ঠানে কৃষি ফার্ম শ্রমিকদের চাকরি স্থায়ীকরণের বিষয়টি জটিল উ‌ল্লেখ ক‌রে কৃ‌ষিমন্ত্রী বলেন, কৃষিকাজ মৌসুমভিত্তিক। সারাবছর সব কৃষি শ্রমিকের কাজ থাকে না। যখন কাজ থাকে না তখন বেতন কী‌সের ভি‌ত্তি‌তে দেয়া হবে? এছাড়া অভিযোগ আছে, চাকরি স্থায়ী করলে শ্রমিকরা ঠিকমতো কাজ করে না। তারপরও সারাবছর যেসব কৃ‌ষি শ্রমিকের কাজ থাকে তা‌দের চাকরি স্থায়ীকরণের উদ্যোগ নেয়া হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। মজুরি বাড়ানোরও উদ্যোগ নেয়া হবে। বর্তমানে এক কেজি গরুর মাংস কিনতে ৬০০-৭০০ টাকা লাগে। সেখানে একজন কৃষি ফার্ম শ্রমিক দিনে ৫০০ টাকা মজুরি পান যা খুবই কম।